বেডরুমে ঢুকে হালকা নীল রাত্রিচর আলোটা জ্বালিয়ে দেয় কুহানা। নবম নীলাভ আলোটা যেন আলতো করে ছুঁয়ে যায় তার চোখদুটো। হলস্টার বিছানায় রেখে ড্রেসিং টেবিলের সামনে এসে দাঁড়ায় সে। আয়নার প্রতিবিম্বে নিজের চোখে চোখ রাখে। টিমে লয়ে শার্টের বোতামগুলো একটা একটা করে খুলে ফেলে। বাঁহাতে শার্টটা খুলে নিয়ে দু'আঙুলে সামান্য সময় ঝুলিয়ে রেখে মাটিতে ফেলে দেয় সে। শার্টের নিচে বুলেটপ্রুফ ভেস্ট পরা থাকে রুহানার। এবার সেই ভেস্টে একবার পরম মমতায় হাত বুলিয়ে নেয়। তারপর ধীরে ধীরে ভেস্ট খুলে বিছানায় রেখে দেয়। বাড়ি ফিরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ক্রমশ নিজেকে নিরাবরণ করাটা রুহানার একটা নেশা। আজও তার ব্যতিক্রম হয়না। নিজের চেহারাটা ভালো করে খুঁটিয়ে দেখে একবার। যদিও কোনো কবির কাব্যিক উপমায় তার স্থান হয়নি, তবু রুহানা। জানে তার এই বালিঘড়ির আকারের মত শরীরের বিভিন্ন খাঁজে পথ হারিয়েছে কত পুরুষের অতৃপ্ত বাসনা। রাজ্যে একের পর এক খুন শুরু হয়েছে। খোলা রাস্তায়, জনসমক্ষে আততায়ী 'পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ' থেকে গুলি করে বাইক চালিয়ে উধাও হয়ে যাচ্ছে। আততায়ী যে একটি মেয়ে, সে বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে সাহায্য করতে দিল্লী থেকে আসে তথাগত চ্যাটার্জী। পুলিশ কমিশনারকে তথাগত জানায় রুহানার রহস্যময় অতীতের কথা।